প্রকাশ্যে নয়, গোপনে আমিরাতে নেতানিয়াহু—পর্দার আড়ালে কী চলছে?
মধ্যপ্রাচ্যে যখন একের পর এক সংঘাত, যুদ্ধ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক তখনই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu–এর কথিত গোপন আরব আমিরাত সফর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা United Arab Emirates–এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন তিনি। যদিও সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি, তবুও বিষয়টি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে ইরানকে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা কৌশল। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, ইরানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে চাইছে তেল আবিব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরব আমিরাত বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি। Abraham Accords–এর মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অনেক বেড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নেতানিয়াহুর এই গোপন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সফরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ইরানের সামরিক তৎপরতা মোকাবিলা
আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট শক্তিশালী করা
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ানো
গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমন্বয়
বিশেষ করে Israel–Hamas War শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। গাজায় চলমান সংঘাত নিয়ে আরব বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভ থাকলেও অনেক উপসাগরীয় দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। তাই পর্দার আড়ালে বিভিন্ন কূটনৈতিক আলোচনা চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা। প্রকাশ্যে সফর করলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বর্তমানে নেতানিয়াহুকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। তাই সফরের পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন এটি ছিল ইরানবিরোধী গোপন বৈঠক, আবার কেউ মনে করছেন ভবিষ্যৎ সামরিক সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও এসব দাবির বেশিরভাগেরই আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন গোপন সফর নতুন কোনো জোট বা কৌশলগত সমঝোতার ইঙ্গিতও হতে পারে। কারণ এই অঞ্চলে এখন প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপই ভবিষ্যৎ সংঘাত ও শান্তি—দুই দিকেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়� কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার�। ফলে পুরো বিষয়টি ঘিরে রহস্য আরও বাড়ছে।
#MiddleEast #Netanyahu #UAE #Israel #Iran #Diplomacy #Gaza

